ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘তিস্তা’ ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 


বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে, জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ দেশের মানুষ ভোট দেবে। তবে শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, দেশ গঠন করাও আমাদের বড় দায়িত্ব। এটি আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে, কারণ আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। দেশকে গড়ে তুলতেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, নীলফামারী একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই ইপিজেডকে আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা দক্ষ শ্রমিকে পরিণত হয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে মা-বোনদের আর অবহেলায় থাকতে হবে না। প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি সহযোগিতা পাবেন। এতে নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিবার পরিচালনায় তারা আরও সক্ষম হয়ে উঠবেন।কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সহজে কৃষি উপকরণ পাওয়ার জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুরা অনেক ক্ষেত্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি সরকারে গেলে তাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, এটি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। এর ফলে তিস্তা নদীঘেঁষা এলাকাগুলোতে সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পুরো অঞ্চল সবুজ ও শস্য-শ্যামলায় ভরে উঠবে।

এ সময় তিনি নীলফামারীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবির কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, পর্যায়ক্রমে এ দাবিও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রেল কারখানাসহ এ অঞ্চলের বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, এই এলাকার মানুষ যেন ভোট দিতে না পারে সেজন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যারা জনগণকে ভয় দেখাবে বা কোনো ধরনের অন্যায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের শক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘তিস্তা’ ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে

আপডেট সময় : ০২:২০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 


বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে, জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ দেশের মানুষ ভোট দেবে। তবে শুধু ভোট দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, দেশ গঠন করাও আমাদের বড় দায়িত্ব। এটি আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে, কারণ আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। দেশকে গড়ে তুলতেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, নীলফামারী একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানে ইতোমধ্যে একটি ইপিজেড রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই ইপিজেডকে আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা দক্ষ শ্রমিকে পরিণত হয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে মা-বোনদের আর অবহেলায় থাকতে হবে না। প্রত্যেক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি সহযোগিতা পাবেন। এতে নারীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিবার পরিচালনায় তারা আরও সক্ষম হয়ে উঠবেন।কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সহজে কৃষি উপকরণ পাওয়ার জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুরা অনেক ক্ষেত্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি সরকারে গেলে তাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, এটি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। এর ফলে তিস্তা নদীঘেঁষা এলাকাগুলোতে সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পুরো অঞ্চল সবুজ ও শস্য-শ্যামলায় ভরে উঠবে।

এ সময় তিনি নীলফামারীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবির কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, পর্যায়ক্রমে এ দাবিও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন, রেল কারখানাসহ এ অঞ্চলের বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।জনসভায় তারেক রহমান আরও বলেন, এই এলাকার মানুষ যেন ভোট দিতে না পারে সেজন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যারা জনগণকে ভয় দেখাবে বা কোনো ধরনের অন্যায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, জনগণের শক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয় নিশ্চিত করবে।